‘কচি–কাঁচা’দের নিয়ে ঢাকায় মরিশাস

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ ফুটবল প্রতিযোগিতায় এবার যে বিদেশি দলগুলো খেলছে, সেগুলো কী প্রতিটিই জাতীয় দল! বাংলাদেশ আর শ্রীলঙ্কা ছাড়া বাকি দলগুলো জাতীয় দলের নামে কোন মানের দল নিয়ে আসছে, তা নিয়ে শঙ্কা জাগছে। কাল তো ঢাকায় পা রেখে ফিলিস্তিন জানিয়ে দিয়েছে তাদের দলে মাত্র ৬জন মূল জাতীয় দলের খেলোয়াড়। গতকাল আসা মরিশাস দলটির দিকে তাকালে তো রীতিমতো ‘কচি-কাঁচার আসর’ বলে মনে হবে। এবারের আসরে অন্য দুই বিদেশি দল বুরুন্ডি আর সেশেলস। বুরুন্ডি এখনো আসেনি। সেশেলসের খেলোয়াড়েরা না আসলেও এসেছেন তাদের প্রতিনিধিরা।

আজ দুপুরে বাফুফে ভবনে হয়েছে টুর্নামেন্টের আগের সংবাদ-সম্মেলন। এতে ছিল অব্যবস্থাপনার ছাপ। তবে এতে বেরিয়ে এসেছে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর অবস্থা। প্রতিটি দলই বঙ্গবন্ধু কাপকে নিয়েছে নিজেদের তরুণ ফুটবলারদের অভিজ্ঞা অর্জনের মঞ্চ হিসেবে।

মরিশাসের কথাই ধরা যাক। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান ১৭২। এই দলের সবচেয়ে ‘বয়সী’ ও ‘অভিজ্ঞ’ ফুটবলার পাসকাল ডেমিয়েনের বয়স মাত্র ২৩। কেবল তা-ই নয়। মরিশাস দলটির মোট ছয়জন ফুটবলারের বয়স ১৭’র কোটায়। ব্রাজিলীয় কোচ ফ্রান্সিসকো ফিলহো সরাসরিই বলে দিয়েছেন, এই টুর্নামেন্টে তাদের কোনো প্রত্যাশা নেই। অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই তারা খেলতে এসেছেন, ‘টুর্নামেন্টে অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য এসেছি। আমাদের কোনো ঘরোয়া ফুটবল নেই। জাতীয় দলের খেলোয়াড়েরা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে জড়িত। তাদের সঙ্গে আনা যায়নি। দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই তরুণ। ৬ জনের বয়স ১৭। দলটিকে তৈরি করা হচ্ছে।’

র‍্যাঙ্কিংয়ের ২০০ তম স্থানে থাকা সেশেলস দলের প্রতিনিধি হিসেবে যে দুজন এসেছেন, তাঁদের একজন দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সহ সভাপতি। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে খেলতে আসা দলটিতে বেশির ভাগই জাতীয় দলের খেলোয়াড় আছে বলে দাবি তাঁর, ‘আমাদের দলটি তারুণ্য নির্ভর। দেশের বাইরে লিগ খেলা খেলোয়াড়দের পাওয়া যায়নি। দলে ৮০ ভাগ জাতীয় দলের খেলোয়াড় আছি। আমরা টুর্নামেন্টে ভালো কিছু করতে চাই।’

পূর্ণাঙ্গ জাতীয় দল নিয়ে না আসলেও শিরোপা ধরে রাখার ব্যাপারে আশাবাদী ফিলিস্তিন। ঢাকায় আসা দলটিতে মূল জাতীয় দলের ৬ জন খেলোয়াড় আছে বলে জানিয়েছেন কোচ মাকরাম বাবুভ, ‘বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অংশ নেওয়া দল থেকে এই দলে ৬ জন খেলোয়াড় আছেন। অনূর্ধ্ব-২৩ দলের খেলোয়াড় আছেন ৮ জন। এ ছাড়া বাকিরা নবীন। এই দল নিয়েই শিরোপা জিততে পারব বলে আশাবাদী আমরা।’

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন ফিলিস্তিনির বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই আগামীকাল টুর্নামেন্ট শুরু করবে বাংলাদেশ। মধ্যপ্রাচ্যের এ দলটির কাছে হেরেই সবশেষ টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল জামাল-বাহিনী। ছয় দলের মধ্যে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে সব চেয়ে ভালো অবস্থানে থাকা (১০৬) ফিলিস্তিন এবারও টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *