29 October, 2020

মনের জাগরণ ছাড়া শিক্ষা অর্থহীন

শিক্ষা ও সংস্কৃতি পরস্পর লগ্ন বিষয়। একের অভাবে অন্যের বিকাশ অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। তাই শিক্ষা ও সংস্কৃতির চর্চা হতে হয় যুগপৎ। অন্যথায় তা পথ হারায়। শিক্ষা ও সংস্কৃতি বহুধারায় বহমান। তার গতি রুদ্ধ হলে, অথবা সংকীর্ণ হলে মানবিক বিকাশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সুপ্রাচীনকাল থেকে তাই শিক্ষার পাশাপাশি সংস্কৃতির চর্চা চলে আসছে। শিক্ষালয় যত দিন আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেনি, তত দিন সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্রগুলোতেই শিক্ষাদানের কাজ চলত। প্রাচীন ভারতে তপোবন, প্রাচীন গ্রিসে প্লেটোর একাডেমি বা অ্যারিস্টটলের লাইসিয়াম ছিল এমনই যুগপৎ শিক্ষা ও সংস্কৃতিচর্চার কেন্দ্র। সেখানে জিম বা শরীরচর্চাকেন্দ্র ছিল অপরিহার্য অঙ্গ। আরও স্পষ্ট করে বললে জিমেই চলত পাঠদানের যাবতীয় কাজ। এখনো উন্নত বিশ্বে শিক্ষালয় ও জিম অভিন্ন। সঙ্গেই শিল্পকলার অন্যান্য শাখায় সাধনার সব আয়োজন। আমাদের দেশে সংস্কৃতির অন্য শাখাগুলো শিক্ষালয়–সংলগ্ন না থাকলেও অন্তত একটা খেলার মাঠ ছিল আবশ্যিক শর্ত। এখন, শিক্ষালয়গুলো নিজেই লৌহকারায় বন্দী, খেলার মাঠে চলে নিত্য বাণিজ্য।

ইহুদি শিক্ষা (হেব্রাইক) খুব বেশি শিক্ষাকেন্দ্রিক হওয়ায় তা গ্রিক শিক্ষার (হেলেনিক) মতো সর্বত্রগামী না হয়ে হিংসাশ্রয়ী হয়ে ওঠে। হেলেনিক সভ্যতার ভিত্তি আলোক, হেব্রাইকের ভিত্তি বাহুবল। হেলেনিক হৃদয় আলোকিত করে, উদ্ভাসিত করে; হেব্রাইক মনের গহিনে সম্পদের লোভ জাগায়। হেলেনিক শিক্ষা যত বেশি বৈশ্বিক ও বহির্মুখী, ইহুদি শিক্ষা ততই অন্তর্মুখী ও সংকীর্ণ। আমাদের দুর্ভাগ্য, আমরা হেলেনিক শিক্ষাচর্চায় উদ্যোগী না হয়ে ইহুদিবাদী শিক্ষার দিকে অতিমাত্রায় ঝুঁকে পড়েছি। বহুধারার সংস্কৃতিচর্চা, বহুমত চর্চার পথ রুদ্ধ করে দিয়েছি। শরীর ও মন, দেহ ও আত্মার সমান অধিকারকে অস্বীকার করে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার নামে অন্ধকারের পূজা করছি। কেবল বই ও পরীক্ষার কারাগারে শিক্ষাকে এমনভাবে আবদ্ধ করে ফেলেছি যে বহিরাঙ্গন বলতে শিক্ষালয়ের বাইরের কোচিং সেন্টারগুলোকেই বোঝায়।