Today : 26 November, 2020

দারুচিনির মাঝে যত উপকার গুণ আছে

খাবারের স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে দারুচিনির জুড়ি নেই। দারুচিনির শুধু খাবারের মানই বাড়ায় না, এর ওষুধিগুণও রয়েছে। দারুচিনি শরীরের যে কোনো ভাইরাসকে ধ্বংস করে দিতে পারে। তাই করোনা মহামারীতে প্রতিষেধক হিসেবে দারুচিনি কাজে কাজ করতে পারে বলে ধারণা গবেষকদের। তবে কোন সময়ে, কী ভাবে দারুচিনি খেলে তা শরীরের জন্য কাজে আসবে। তা জানাটা খুব জরুরি। কারণ, বেশি পরিমাণে দারুচিনি খেলে হিতের বিপরীতও হতে পারে। ১৯১৮ সালে স্প্যানিশ ফ্লু মহামারীর সময়ে যারা দারুচিনির কারখানার প্রায় কোনো কর্মীই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হননি। দারুচিনি নিয়ে এমন প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এই সময়। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, সেই সময় স্প্যানিশ ফ্লু নির্মূলে দারুচিনির গুঁড়া ওষুধ হিসেবে কাজ করেছে। অনেকেই দুধে সামান্য পরিমাণ দারুচিনি তেল ব্যবহার করেই সুস্থ হয়ে গিয়েছিলেন।

ওই প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, এইচআইভি, অ্যাডিনোভাইরাস ও হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাসের বিরুদ্ধেও দারুচিনি কার্যকারিতার প্রমাণ দেখিয়েছে।

করোনা মহামারীতেও অনেক দেশে প্রতিষেধক হিসেবে দারুচিনি ব্যবহার করছে। এমনকি চিকিৎসকরাও করোনা প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুচিনি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। যদিও করোনা প্রতিরোধে দারুচিনি কতটা কার্যকর সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, সংক্রমণের তীব্রতা প্রতিরোধ করতে পারে দারুচিনি। তবে কখন খাওয়া হচ্ছে এবং কি পরিমাণে খাওয়া হচ্ছে তার উপরেও নির্ভর করবে দারুচিনির ফল।

শরীর সুস্থ রাখতে দারুচিনি কীভাবে কাজ করে :

দারুচিনি শরীরের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে। মানব শারীরিরের প্রতিরক্ষার জন্য প্রদাহ গুরুত্বপূর্ণ হলেও অতিরিক্ত প্রদাহ মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে। সেটাই কমিয়ে দেয় দারুচিনি। দারুচিনিতে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পলিফেনল ও প্রোঅ্যান্থোসায়ানাইডিন রয়েছে। যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এছাড়াও দারুচিনি মেদ কমাতেও ভুমিকা রাখে। শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং হার্টের রোগ নির্মূলেও সহায়ক ভুমিকা পালন করে দারুচিনি। দারুচিনির অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল প্রপার্টি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।

যেসব ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করে দারুচিনি :

ভারতে এক গবেষণায় দেখা গেছে, দারুচিনির প্রোসায়ানাইডিন পলিমার এইচআইভি, সংক্রমিত ব্যক্তিদেরকে এইচআইভি কন্ট্রোলার্সে পরিণত করতে পারবে। দারুচিনিতে যে মলিকিউল রয়েছে এইচআইভি ভাইরাসকে দমন করে ডিফেন্স প্রোটিনকে সুরক্ষা দিতে পারে। এছাড়াও দারুচিনির সিনামালডিহাইড শ্বাসতন্ত্রের রোগ অ্যাডিনোভাইরাসের বিরুদ্ধেও কার্যকর।

এদিকে জাপানের একটি গবেষণায় বলা হয়, সেলন দারুচিনির মধ্যে থাকা উপাদান সিনাজিলানিন বাকুলোভাইরাসের সংখ্যা বৃদ্ধিতে বাধা দেয়। বাকুলোভাইরাস আদতে পোকামাকড়কে সংক্রমিত করে। এই উপাদান হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস-১ ও হার্পিস সিমপ্লেক্স ভাইরাস-২ এর বিরুদ্ধে কার্যকর বলে প্রমাণিত। এছাড়াও এশিয়ার ঐতিহ্যবাহি আয়ুর্বেদিক চিকিৎসার অন্যতম উপাদান হলো দারুচিনি। প্রধানত বুকের যে কোনো ধরনের অসুস্থতায় দারুচিনি ব্যবহার করা হয়।

চিকিৎসকরা জানান, নিয়মিত দারুচিনি খেলে নিউমোনিয়া, শ্বাসনালির ফুলে ওঠা, কাশি, গলার কর্কশতা ও শ্বাসপ্রশ্বাসের অসুবিধা কমাতে সাহায্য করে।

দারুচিনি খাওয়ার নিয়ম :

দারুচিনি পানি সেদ্ধ করে অথবা গরম পানিতে দারুচিনির গুঁড়া মিশিয়ে খেলে উপকার পাওয়া যায়। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দারুচিনির তেল ব্যবহার করা উচিত নয়। সিনামন অয়েল এতো বেশি শক্তিশালী যে এক বা দুই ফোঁটার বেশি খেলে শরীরের ভেতর পুড়ে যেতে পারে। কোন খাবারে ঠিক কতটুকু সিনামন অয়েল মিশিয়ে খাবেন, সে বিষয়ে অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া উচিত।