Today : 05 December, 2020

দিল্লির ভোট: ভারতীয় গণতন্ত্রের অগ্নিপরীক্ষা

একটা চালু রসিকতা ছিল আমাদের ছোট বেলায়। পাকিস্তান-ভারতের ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে। তখন ভারতীয় ক্রিকেটে স্পিনারদের রমরমা। বেদী, প্রসন্ন, চন্দ্রশেখরের দাপটে থরহরি অবস্থা বিভিন্ন দেশের ব্যাটসম্যানদের। এহেন ভারত সেবার পাকিস্তানে খেলতে গেছে। যথারীতি বেদী-চন্দ্রশেখরের স্পিনের ভেলকিতে গেল গেল রব উঠেছে পাক শিবিরে। তাদের একমাত্র ভরসা তখন আম্পায়াররা। নিশ্চিত আউটও আম্পায়ারের সৌজন্যে বাতিল হয়ে যাচ্ছে। একদিন চন্দ্রশেখরের বলে নামী এক ব্যাটসম্যানের উইকেট ছিটকে গেল ওভারের শুরুতেই। আওয়াজ উঠল—হাউজ দ্যাট। আম্পায়ার ধীরে ধীরে আঙুল তুলে আউটের নির্দেশ দিতেই চন্দ্রশেখর বিনয়ের সঙ্গে জানতে চাইলেন, উনি কি প্যাভিলিয়নে যাচ্ছেন! ঈষৎ বিস্মিত আম্পায়ার সামান্য রেগে জবাব দিলেন 'আপনি নিজেই উইকেট ছিটকে দিয়ে প্রশ্ন করছেন। মানে কী! চন্দ্রশেখর বিনয়ের সঙ্গে বললেন, ‘উইকেট ছিটকেছি এটা ঠিক। কিন্তু আউট হয়েছেন কী!’

কারচুপি-দুর্নীতির এই ক্রিকেটীয় আখ্যানটি মনে এল দিল্লি বিধানসভায় সবে শেষ হওয়া নির্বাচনের ফল কী হবে, তা নিয়ে লিখতে বসে। এমনিতে ভোট হয়ে যাওয়ার পরেই ভারতের সব মিডিয়াই স্পষ্ট করে ভোটফেরত সমীক্ষায় জানিয়ে দিয়েছে যে এবারও নিশ্চিত দিল্লি ভোটে বিজেপিকে হারিয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসতে চলেছে আম আদমি পার্টি—সংক্ষেপে আপ।

কিন্তু ওই যে জয়-পরাজয়ের মাঝখানে ধূসর অঞ্চল পাকিস্তানের আম্পায়ারের মতো আমাদের ইভিএম মেশিন, সেও যেকোনো জেতা ম্যাচকেও যখন-তখন হারিয়ে দিতে পারে খলনায়কোচিত দক্ষতায়। ফলে যে যা-ই পূর্বাভাস দিক, আমি কিন্তু নিশ্চিত নই অরবিন্দ কেজরিওয়ালের জয় নিয়ে। ভোট নিয়ে দিল্লি থেকে এখনো যেটুকু যা খবর পেয়েছি, তাতে অবশ্যই সব সমীক্ষার সঙ্গে আমিও মনে করি এবারও আপ জিতছে। কিন্তু জিতছেই বলতে পারছি না, যেহেতু তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বীর নাম বিজেপি। আর কে না জানে, সব দেশেই মানি, মেশিন ও মাসল—এ তিন পাওয়ার আজকের ভোটে বাজিমাত করার গুরুত্বপূর্ণ তিন শক্তি, তাতে এই মুহূর্তে বিজেপির ধারেকাছেও কেউ নেই।