Today : 05 December, 2020

ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালু করল সিলেট 

 

দেশের প্রথম ‘ওয়াইফাই সিটি’ হিসেবে যাত্রা শুরু করলো সিলেট। নগরীর ১২৬টি এক্সেস পয়েন্টে ফ্রি ইন্টারনেট সেবা চালুর মধ্য দিয়ে ‘ওয়াইফাই সিটি’ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলো সিলেট। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে সিলেটকে ‘ওয়াইফাই সিটি’ আখ্যা দিয়ে এর ইউজার নেম ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ ও পাসওয়ার্ড হিসেবে জাতীয় স্লোগান ‘জয় বাংলা’ ঘোষণা করেছেন।

‘ওয়াইফাই সিটি’ হিসেবে সিলেটের যাত্রা শুরুর মধ্য দিয়ে সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের আরেকটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ হলো বলে মনে করছেন সিলেটের মানুষ।

নির্বাচনের আগে তিনি ‘আলোকিত উন্নত সিলেট’র যে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন, তাতে সিলেটকে একটি স্মার্ট নগরী হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি ছিল। সে লক্ষ্যে পুরো নগরীকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা, ‘ওভারহেড ক্যাবল লাইন’ অপসারণ করে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ করাসহ বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ এখন দ্রুত এগিয়ে চলছে। এসব উন্নয়ন কাজ শেষ হলে সিলেট পুরোপুরি স্মার্ট সিটিতে রূপান্তর হবে বলে মনে করছেন সিলেটের মানুষ।

নগরীর যেসব স্থানে ওয়াইফাই জোন : চৌকিদেখিতে একটি, আম্বরখানা পয়েন্টে চারটি, দরগা গেইটে দুটি, চৌহাট্টায় তিনটি, জিন্দাবাজারে চারটি, বন্দরবাজার ফুটওভার ব্রিজ এলাকায় তিনটি, হাসান মার্কেট এলাকায় পাঁচটি, সুরমা ভ্যালি রেস্ট হাউস এলাকায় দুটি, সার্কিট-হাউস জালালাবাদ পার্ক এলাকায় তিনটি, কিন ব্রিজের দুই প্রান্তে ছয়টি, রেলওয়ে স্টেশনে চারটি, বাস টার্মিনালে তিনটি, কদমতলী পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকায় পাঁচটি, হুমায়ুন রশীদ চত্বরে তিনটি, আলমপুর পাসপোর্ট অফিস এলাকায় দুটি, বিভাগীয় কমিশনার কার্যালয় এলাকায় তিনটি, সিলেট শিক্ষাবোর্ডে দুটি, উপশহর রোজভিউ পয়েন্টে দুটি, শাহজালাল উপশহর ই-ব্লক ও বি-ব্লকে একটি করে দুটি, টিলাগড় পয়েন্টে তিনটি, এমসি কলেজ এলাকায় দুটি, শাহী ঈদগাহ এলাকায় তিনটি, কুমারপাড়া এলাকায় তিনটি, কুমারপাড়া সড়কে দুটি, দক্ষিণ বালুচরে একটি, টিচার্স ট্রেনিং কলেজে একটি এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনে একটি এক্সেস পয়েন্ট থাকবে।

এছাড়াও সিলেট নগরীর নাইওরপুল পয়েন্টে দুটি, মিরাবাজার সড়কে একটি, রায়নগর এলাকায় একটি, সোবহানীঘাট পুলিশ স্টেশন এলাকায় দুটি, ধোপাদিঘীরপাড় বঙ্গবীর ওসমানী শিশু উদ্যানে একটি, বন্দরবাজার জামে মসজিদ এলাকায় দুটি, নয়াসড়ক পয়েন্ট ও সংলগ্ন এলাকায় চারটি, কাজীটুলা এলাকায় দুটি, চৌহাট্টা সড়কে তিনটি, হাউজিং এস্টেট সড়কে একটি, সুবিদবাজারে একটি, মিরের ময়দানে একটি, পুলিশ লাইন সড়কে একটি, রিকাবীবাজার জেলা স্টেডিয়ামে দুটি, মদন মোহন কলেজ এলাকায় একটি, মির্জাজাঙ্গাল সড়ক এলাকায় দুটি, পাঁচ ভাই রেস্টুরেন্ট এলাকায় একটি, খুলিয়াপাড়া এলাকায় একটি, নর্থ ইস্ট ইউনিভার্সিটি এলাকায় একটি, তালতলা হোটেল গুলশান এলাকায় একটি, কাজিরবাজার সেতু এলাকায় একটি, কাজিরবাজার সড়কে দুটি, খোজারখলা সিলেট টেকনিক্যাল কলেজ এলাকায় একটি, বাগবাড়ি ওয়াপদা মহল্লা এলাকায় একটি, পাঠানটুলায় একটি, মদিনা মার্কেট পয়েন্টে দুটি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় গেটে দুটি এবং ওসমানী মেডিকেল কলেজ এলাকায় একটি এক্সেস পয়েন্ট থাকবে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, এসব এক্সেস পয়েন্টের প্রতিটিতে একসাথে ৫০০ জন যুক্ত থাকতে পারবেন। এর মধ্যে একসাথে ১০০ জন উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারবেন। প্রতিটি এক্সেস পয়েন্টের চতুর্দিকে ১০০ মিটার এলাকায় ব্যান্ডউইথ থাকবে ১০ মেগাবাইট-সেকেন্ড।