29 October, 2020

চলাচলের উপযোগী করতে ১৭৮ নদী খনন করা হবে

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথের নাব্যতা রক্ষায় ‘ড্রেজিং মাস্টার প্ল্যান’ করা হয়েছে। এর আওতায় ১৭৮টি নদী খনন করে প্রায় ১০ হাজার কিলোমিটার নৌপথ চলাচলের উপযোগী করা হবে।

আজ রোববার জাতীয় সংসদে সরকারি দলের সাংসদ নুরুনবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপ্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উপস্থাপন করা হয়।

সরকারি দলের সাংসদ এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের জবাবে খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের যৌথ অর্থায়নে দুই দেশের নৌ-প্রটোকলভুক্ত ৪৭০ কিলোমিটার নৌপথের খনন কাজ শুরু হয়েছে। এর আওতায় কালনি ও কুশিয়ারা নদীর আশুগঞ্জ-জকিগঞ্জ নৌপথের ২৮৫ কিলোমিটার এবং যমুনা নদীর সিরাজগঞ্জ-দৈখাওয়া নৌপথের ১৮৫ কিলোমিটার নৌপথ খনন করা হবে।

সরকারি দলের সাংসদ কাজী নাবিল আহমেদের প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে অভ্যন্তরীণ নৌপথের দৈর্ঘ্য বর্ষাকালে প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার। শুষ্ক মৌসুমে এটি ৬ হাজার কিলোমিটারে কমে আসে। নৌযান যাতে বাধাহীনভাবে চলাচল করতে পারে সে জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

সরকারি দলের সাংসদ বেনজীর আহমদের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, অভ্যন্তরীণ রুটের জন্য সরকার বিভিন্ন ধরনের ৩৯টি নৌযান নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ছাড়া অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় যাতায়াত ব্যবস্থা দ্রুত ও সহজতর করতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক হভার ক্র্যাফ্ট সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আন্তর্জাতিক রুটে চলাচলে সমুদ্রগামী ছয়টি বড় জাহাজ ক্রয় করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাঙ্কার, দুটি মাদার প্রোডাক্ট অয়েল ট্যাংকার ও কয়লা পরিবহন উপযোগী দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার। এ ছাড়া সমুদ্রগামী আরও ৪টি নতুন সেলুলার কন্টেইনার জাহাজ কেনার পরিকল্পনা আছে।

তামাকের কারণে আর্থিক ক্ষতি ৩০ হাজার কোটি

সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ মমতা হেনার প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ‘দ্য ইকোনমিক কস্ট অব টোব্যাকো ইউজারস ইন বাংলাদেশ: এ হেলথ কস্ট এপ্রোস’ শিরোনামে ২০১৮ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশে ১৫ লাখের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষ তামাক সেবনের কারণে এবং ৬১ হাজারের বেশি শিশু পরোক্ষ ধূমপানের প্রভাবে প্রাণঘাতী বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। তামাকজনিত রোগব্যাধি ও অকাল মৃত্যুর কারণে বাংলাদেশে প্রতিবছর ৩০ হাজার ৫৭০ কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, টোব্যাকো এটলাস ২০১৮ অনুযায়ী, তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রতিবছর এক লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষ মৃত্যুবরণ করে। ২০৪০ সালের মধ্যে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে খসড়া রোডম্যাপ প্রণয়ন করা হয়েছে।

দেশে অটিস্টিক শিশু ৫০ হাজার
সংরক্ষিত নারী আসনের সাংসদ গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, সমাজসেবা অধিদপ্তরের প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপ কর্মসূচির তথ্য অনুসারে, দেশে বর্তমানে অটিস্টিক শিশুর সংখ্যা ৫০ হাজার ৫০০ জন। দেশের সব সরকারি হাসপাতাল, কমপ্লেক্সে অটিস্টিক শিশুদের চিকিৎসা দেওয়ার জন্য আলাদা ইউনিট নেই। তবে অটিস্টিক শিশুসহ সব প্রতিবন্ধী শিশুদের অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সব প্রতিষ্ঠানে স্বাস্থ্য সেবা দেওয়া হয়ে থাকে।

জাতীয় পার্টির সাংসদ মুজিবুল হকের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত বছর প্রায় ২০ হাজার চিকিৎসক ও নার্সকে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এ বছরও চিকিৎসক ও নার্সদের ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি শুরু হয়েছে।

সরকারি দলের সাংসদ নুরুন্নবী চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ও অন্যান্য প্রশিক্ষিত জনবলের কিছুটা ঘাটতি থাকায় জেলা সদরে অবস্থিত সরকারি হাসপাতালগুলোতে সার্জারি, অর্থোপেডিকসহ অন্যান্য বিশেষায়িত চিকিৎসা সেবার সুযোগ সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। তবে বর্তমান সরকার চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ কার্যক্রম অব্যাহত রাখার মাধ্যমে এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় অন্যান্য জনবল ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সরবরাহ নিশ্চিত করার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে জেলা সদরের হাসপাতালগুলোকে কার্যকর চিকিৎসাবান্ধব করতে সরকার বদ্ধপরিকর। একান্ত জটিল কোনো সমস্যা না থাকলে সব ধরনের অর্থোপেডিক এবং জেনারেল সার্জারি জেলা সদর হাসপাতালেই করা হয়ে থাকে।

সরকারি দলের সাংসদ আহসানুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক জানান, চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও রোগীদের মানসম্মত চিকিৎসা প্রদানে ‘স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন ২০১৯‘ খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। শিগগিরই এটি অনুমোদনের জন্য মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন হবে।

এম আবদুল লতিফের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ইউনিট স্থাপনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর ডিপিপি প্রণয়নের কার্যক্রম চলমান আছে।