26 October, 2020

ওয়াসাকে নিরাপদ পানির ব্যবস্থা করতে হবে

 


ঢাকায় ওয়াসার সরবরাহ করা পানির মান নিয়ে অনেকে সমালোচনার ঝড় তৈরি হয়েছে।পানি কতটা বিশুদ্ধ কিংবা কতটা খাওয়ার যোগ্য তা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। দুর্গন্ধ-ময়লাযুক্ত পানি সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরেই। তবে দিন যত যাচ্ছে ততই অবনতি ঘটছে। সম্প্রতি পানির মান সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্টে। ওই তালিকার বাইরে অনেক এলাকায়ই বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে। পাশাপাশি অভিযোগ রয়েছে পানির সরবরাহ না থাকারও। পানি সংকটের কারণে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। গ্রীষ্মের এই দাবদাহে পানির অভাবে কী পরিমাণ ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে তা ভুক্তভোগিরাই জানেন।

এর আগে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) একটি প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ওয়াসার এমডি তাকসিম এ খান বলেছিলেন, ঢাকা ওয়াসার পানি ১০০ ভাগ সুপেয়। তখন অনেকে তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। গত ২০ এপ্রিল দেওয়া এ বক্তব্যের প্রায় এক মাস পর তার স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হলো ঢাকা ওয়াসার ৫৯ এলাকার পানি বেশি দূষিত, পানের অনুপযোগী। এ প্রতিবেদন থেকে এটিই প্রতীয়মান হয় এমডির বক্তব্য স্ববিরোধী।

হাইকোর্ট বলেন, নিরাপদ পানি ঢাকাবাসীর কাছে পৌঁছে দেয়ার দায়িত্ব ওয়াসার। এছাড়া এটা শুধু উৎপাদন পর্যায়ে না রেখে, কিভাবে সবার মাঝে সরবরাহ করা সম্ভব হবে, তাও নিশ্চিত করতে বলেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে ওয়াসার পানি পরীক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক সাবিতা রেজওয়ানা রহমানকে মতামত জানতে তাকে আদালতে উপস্থিত হতে বলেছেন হাইকোর্ট।

দূষিত পানির সংকট মোকাবেলায় বিকল্প হিসেবে বাজার থেকে বোতলজাত পানি কিনে থাকেন অনেকে। কিন্তু বোতলজাত কিংবা কনটেইনারে সরবরাহকৃত পানি কতটা বিশুদ্ধ সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ। তাছাড়া কতভাগ মানুষ বোতলজাত পানি কিনে চাহিদা মেটাতে সক্ষম? অভিযোগ রয়েছে, রাজধানীসহ সারা দেশে কথিত মিনারেল ওয়াটারের নামে যেসব বোতলজাত পানি বিক্রি হচ্ছে, তার অধিকাংশই মানসম্মত নয়।

অধিকাংশ বোতল, কনটেইনার ও প্লাস্টিক প্যাকেটের পানিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত আয়রন, পিএইচ, ক্লোরিন, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম নেই বললেই চলে। বরং এসব পানিতে লেড, ক্যাডমিয়াম, কলিফর্ম ও জিংকের অস্তিত্ব রয়েছে। ক্যাডমিয়ামযুক্ত পানি নিয়মিত পান করলে শরীরে পুষ্টির অসমতা দেখা দিতে পারে এবং মানুষ ক্যান্সারে আক্রান্ত হতে পারে। নিরাপদ ভেবে এসব পানি কিনে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি মানুষ নানা রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে।