Today : 05 December, 2020

দেশের গ্যাস রুশ কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া যাবে না: আনু মুহাম্মদ

তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ভোলা গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করেছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠান বাপেক্স। বাপেক্স দক্ষতার সঙ্গে গ্যাস অনুসন্ধান করেছে। যখন এটি উত্তোলনের সময়ে এসেছে, তখন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রুশ কোম্পানিকে। কোনোভাবেই দেশের গ্যাস রুশ কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আজ সোমবার বিকেলে এক বিক্ষোভ সমাবেশে আনু মুহম্মদ এসব কথা বলেন। ‘সুন্দরবন থেকে কক্সবাজার: ভারত-চীন-জাপানের উপকূলবিনাশী সকল প্রকল্প’ বাতিলের দাবিতে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ঢাকা মহানগর কমিটি এই সমাবেশের আয়োজন করে।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, এর আগেও গাজপ্রমের (রাশিয়ার সংস্থা) সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। দেখা গেছে, বাংলাদেশের সংস্থার চেয়ে অন্তত দ্বিগুণ টাকা লাগে তাদের। এরপরই গাজপ্রম দক্ষতার সঙ্গে কাজ করতে পারেনি। তাদের কাজের জটিলতাগুলো পরে বাপেক্সকে শেষ করতে হয়েছে। অদক্ষতার, দীর্ঘসূত্রতার পরিচয় দেওয়া সত্ত্বেও তাদের কাজ দেওয়ার কারণ কী?

আনু মুহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশের সরকার যদি জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থাকত, তাহলে এ ধরনের চুক্তি করতে পারত না। কোনোভাবেই বাংলাদেশের গ্যাস রাশিয়ান কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়া যাবে না।

দেশে একের পর এক জাতীয় স্বার্থবিরোধী চুক্তি হচ্ছে মন্তব্য করে আনু মুহাম্মদ বলেন, কমিশনভোগীদের আধিপত্যে দেশের জন্য ভয়াবহ সব চুক্তি হচ্ছে। চুক্তিগুলো যাতে অবাধে করা যায়, সে জন্য ২০১০ সালে দায়মুক্তি একটা আইন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয় যা যা করবে, তা নিয়ে আদালতে কোনো প্রশ্ন করা যাবে না। ওই আইনের অধীনে কোনো দরপত্র ছাড়াই রাশিয়ান কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এর আগে চীনা, ভারতীয়, মার্কিন, রাশিয়ান, জাপানি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে। এসব কোম্পানির এজেন্টদের যারা এই দেশে আছে, তারাই সরকার চালাচ্ছে।

আনু মুহাম্মদ বলেন, গ্যাসের অভাব থাকার যুক্তি দিয়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র করে বাংলাদেশকে ভয়াবহ ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। কয়লাভিত্তিক, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র যেগুলো করা হচ্ছে, তা বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের জন্য নয়। এটি করা হচ্ছে কমিশনভোগীদের সুবিধার জন্য।

সভাপতির বক্তব্যে তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির ঢাকা মহানগর কমিটির আহ্বায়ক জুলফিকার আলী বলেন, সরকার যদি এই জায়গা থেকে পিছু না হটে, দেশের সম্পদ কাজে না লাগিয়ে বিদেশিদের লুটপাটের সুযোগ তৈরি করে দেয়, তাহলে বৃহত্তর গণ-আন্দোলনের কর্মসূচি নেওয়া হবে।

সমাবেশ পরিচালনা করেন জাতীয় কমিটির নগর শাখার সমন্বয়ক আকবর খান। সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন বাসদ নেতা বজলুর রশীদ, গণসংহতি আন্দোলনের নেতা বাচ্চু ভূঁইয়া, বাসদ (মার্ক্সবাদী) নেতা নাঈমা খালেদসহ তেল-গ্যাস, খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির নেতা-কর্মীরা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি তোপখানা সড়ক প্রদক্ষিণ করে পল্টন মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।